
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে শামীম আশরাফ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এদিকে, ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করায় নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল বিরুদ্ধে বাদ যোহর নামাজ শেষে বিক্ষোভ করেছে তৌহিদী জনতা। এসময় শামীম আশরাফকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বড় মসজিদ গেইটে যোহর নামাজের পর ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করায় অপুর্ব পালের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন মুসুল্লিরা। এসময় শামীম আফরাফকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শামীম আশরাফ লেখেন, আমার স্ট্যাটাসের ভাষাগত বৈচিত্র্য ইচ্ছে করেই আনছি। আর দুয়েকদিন গালিময় স্ট্যাটাস দেখা যাবে। মাত্র দুয়েকদিন ধৈর্য ধরুন, প্লিজ। এরপর ভালো হয়ে যামু।
এর দুই ঘণ্টা পরই আরেকটি পোস্ট দেন। সেই পোষ্টে এক মন্তব্যকারীকে রিপ্লাইয়ে বেহেস্ত নিয়ে কটুক্তি করেন। এমন মন্তব্য ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের পবিত্র বিশ্বাসের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখা দিয়েছে। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর শহরজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
মোহাম্মদ রিয়াদ নামে এক ফেসবুক ব্যবহারী লিখেন, ধর্ম নিয়ে কটূক্তি কখনোই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়! শামীম আশরাফ নামে এক ব্যক্তি ইসলাম ও বেহেশত নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছে-যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই- আপনি নাস্তিক হোন, অন্য ধর্ম পালন করুন, কিংবা মুসলমান হোন- কোনো অবস্থাতেই অন্যের ধর্মকে ছোট করে বা অপমানজনকভাবে মন্তব্য করার অধিকার আপনার নেই।বাংলাদেশের সংবিধান এবং দণ্ডবিধির ২৯৫(ক) ধারা অনুযায়ী, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ।
আমরা দাবি জানাই-শামীম আশরাফের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ধর্ম নিয়ে এমনভাবে কটূক্তি করার সাহস না পায়। ধর্মকে অপমান নয়, সম্মান দিন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে অন্যের বিশ্বাসে আঘাত করা না।
মইন খান পাঠান নামে একজন শামীম আশরাফকে গ্রেপ্তানের দাবি জানিয়ে লিখেন, তথাকথিত ফ্যাসিস্ট কালচারাল মানবাধিকার কর্মী শামীম আশরাফ সম্প্রতি সময়ে জান্নাত নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। শুধু সম্প্রতি সময়েই নয়, ইতিপূর্বে বহুবার ইসলাম ধর্মকে অবমাননা এবং কটুক্তি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তার মানবঅধিকারের বুলির আড়ালে সে চরম ইসলাম বিদ্বেষ লালন করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটা প্রচার করে। তাকে বিভিন্ন সময় শাহাবাগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গেলেও ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করার সময় তার কোন জবাব থাকে না।
নুরা পাগলা ঘটনা, জোর করে চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় সে মঞ্চনাটক করে প্রতিবাদ করলেও, কোরআন অবমাননার ঘটনায় তার কোন আওয়াজ নেই। উল্টা সে জান্নাত নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে।
আমরা ময়মনসিংহবাসী মুর্তাদ এবং ভন্ড শামীম আশরাফকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি, এবং তাকে ইসলাম ধর্ম অবমাননা করার জন্য দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে, সাধারণ মানুষ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বিক্ষোভ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উগ্র অপূর্ব পালের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে যোহরের নামাজের পর বড় মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করে মুসুল্লিরা।