
তারাকান্দায় পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ: সৎবোন এবং আশ্রিত লাল মিয়ার প্রতারণায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন রেখা খাতুন
তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে এক অসহায় নারীকে বঞ্চিত করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে তাঁর সৎবোনের এবং আশ্রিত লাল মিয়া ওরফে পণার বিরুদ্ধে। প্রতারণা ও অবৈধ দখলের কারণে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে চরম অভাব-অনটনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী মোছাঃ রেখা খাতুন।
জানা গেছে, তারাকান্দা উপজেলার ৩ নং কাকনী ইউনিয়নের কাকনী এলাকার বাসিন্দা মরহুম নিয়াজ হাবিব খানের কন্যা রেখা খাতুন। পারিবারিকভাবে তাঁকে ময়মনসিংহ সদরের পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চকশ্যামরাপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁদের সংসারে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। যার মধ্যে এক ছেলে শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী। একদিকে বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ স্বামী, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী সন্তানসহ ছয় সন্তানের বিশাল সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বিয়ের কিছুদিন পর তাঁর পিতা নিয়াজ হাবিব খান মারা যান। পিতার মৃত্যুর পর চরম আর্থিক সংকটে পড়ে নিজের ছোট বোন পুষ্প খানমের নিকট পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৫ শতাংশ জমি পাঁচ বছরের জন্য বন্ধক রেখে ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। তবে কিছুদিন পর টাকা প্রদানকারী বোন পুষ্প খানম হঠাৎ বিদেশে চলে যান। এই সুযোগে রেখা খাতুনের সৎবোন অর্থাৎ পুষ্প খানমের সহোদর বোন রুবি খানম এবং আশ্রিত লাল মিয়া ওরফে পণা উক্ত বন্ধককৃত জমিটি অন্যায়ভাবে নিজের দখলে নেন।
পরবর্তীতে চুক্তির পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর রেখা খাতুন জমিটি ফেরত চাইতে গেলে তারাকান্দা বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ মোস্তাক এর স্ত্রী মোছাঃ রুবি খানম জমি ফেরত দিতে, লাল মিয়া জমির দখল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং জমিটি লিখে নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
ভুক্তভোগী রেখা খাতুন আকুতি জানিয়ে বলেন, "আমার স্বামী অসুস্থ, এক ছেলে প্রতিবন্ধী। অভাবের সংসারে পৈত্রিক এই জমিটুকুই আমার শেষ সম্বল ছিল। আমি কোনো জমি বিক্রি করিনি, কেবল বন্ধক দিয়েছিলাম। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলেও সৎবোন রুবি খানম এবং লাল মিয়া যোগযাজশে প্রতারণা করে আমার জমি দখল করে রেখেছে এবং ফেরত দিচ্ছে না। আমি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
এ বিষয়ে জমি উদ্ধারে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দ্রুত আইনি ও মানবিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।