নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, যে নির্বাচন কমিশন অন্যায়ভাবে একজনকে একটি মার্কা থেকে বঞ্চিত করতে পারে ঐ নির্বাচন কমিশন এই বাংলাদেশে কখনোই স্বাধীন, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারে না। ওই নির্বাচন কমিশনের অধীনে এই বাংলাদেশে কোন সির্বাচন হতে পারে না। এনসিপি বাংলাদেশের প্রত্যেকটা আসনে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে আমরা মনে করি আমাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। বিগত সময়ে টাকার বিনিময়ে নমিনেশনের যে কালচার, আমরা সে করাপটেড কালচারে যেতে চাই না। তাই আমরা জেলা থেকে প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যন্ত কমিটি করতে চাই। এনসিপি ত্যাগি নেতাকর্মীদের মাধ্যমে আগামী সংসদে প্রত্যেকটি আসনে আমরা জিতে আসার মতো সেই ধরণের যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে পারবো। প্রতিটি আসনের জন্য এনসিপি পার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে সাংগঠনিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির ময়মনসিংহে জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর টাউন হল তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এনসিপি একটি অপরিহার্য্য দল। যারা সেখানে থাকলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ফ্যািিস্ট উৎখাত করা যে লড়াই সেটার নেতৃত্ব সঠিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমরা বিশ্বাস করি আগামী সংসদ নির্বাচনে এনসিপি নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করবে। আমরা চাই, স্থিতি’শীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ একটি সংসদ। সংস্কার এবং বিচার এই কার্যক্রমের যে ধারাবাহিকতা নির্বাচনের পরেও এই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য এনসিপি তাদের জায়গায় বরাবরের মতোই সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করে যাবে। এছাড়াও তরুণদের ক্ষমতায়ন আগামীর বাংলাদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, আমরা সেই তরুণদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ দুর্ণীতি বিরোধী একটি গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আগামী বাংলাদেশকে গড়তে চাই।
তিনি বলেন, আমরা আশা করছি খুব শিঘ্রই এনসিপির সাংগঠনিক বিস্তৃতি বাংলাদেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়বে এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও দৃশ্যমান বিচারের পরবর্তীতে যে গণতান্ত্রিক পক্রিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেখানে এনসিপি বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দল হিসেবে আবির্ভূত হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবের কথা শুনে মনে হয়েছে, শাপলা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোন সমস্যা থাকা না থাকা এগুলো তাদের কাছে কোন বিষয় না। শাপলা দিবে কি দিবে না এটা তাদের মন মর্জির উপর নির্ভর করে। অভ’্যত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান থেকে মন মর্জি মত চলা স্বেচ্ছাটারিতা করার যে আচরণ এটা আমরা প্রত্যাশা করিনা, এটা আমরা মেনেও নেবো না। আমরা আমাদের জায়গা থেকে স্পষ্ট করি বলি, শুধু নির্বাচন কমিশন না, কোন প্রতি তাদের জায়গা থেকে স্বেচ্ছচারিতা, বেআইনী এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারে না। আমরা স্পষ্ট করে নির্বাচন কমিশনোর কাছে জানতে চাই, তার কি জনগণের মুখাপেক্ষী? নাকি ক্ষমতায় কাল্পনিকভাবে আসতে চাচ্ছে এমন কোন দলের মুখাপেক্ষী। নাকি কোন অস্ত্রের ভয়ে ভীত হয়ে কোন প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সির মুখাপেক্ষী? এর জবাব তাদেরকে দিতে হবে। আইনগত বাঁধা যেহেতু নেই এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দিতে হবে। যেহেতু আইনগত কোন বাঁধা নেই। নির্বাচন কমিশন এনসিপিকে অবশ্যই শাপলা প্রতীক দিবে এবং সেই শাপলা নিয়ে এনসিপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, এনসিপি উচ্চ কক্ষে নির্বাচনের পক্ষে। নিন্ম কক্ষে পিআর এর বিপক্ষে। এনসিপি কয়েকটা সীটের জন্য আগামী বাংলাদেশে পলিটিক্স করবে না। ২৪ এর অভ’্যত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের নেতৃত্বে এনসিপি গঠিত হয়েছে। সারা বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা সরসরি এর সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। কয়েকটা সীটের জন্য কারো সাথে নেগোসিয়েশন করবে এনসিপি এই নীতিতে বিশ্বাস করে না। এক বা একাধিক কোন রাজনৈতিক দল তাদের জায়গা থেকে জনগণ এবং দেশের আকাঙ্খাকে সামনে রেখে পরিবর্তনের জন্য কমিটমেন্ট দেয় সেই অনুযায়ী কথা এবং কাজ করে বাংলাদেশকে নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনাগুলের মধ্যে ঐক্য দেখা যায় তখন আমরা এক্ষেত্রে ইলোক্ট্ররাল এলায়েন্সের চিন্তা করতে পারি। সে বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা সকল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে। এনসিপি নির্বাচনে যদি কোন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্খা অনুযায়ী পরিবর্তনের কমিচমেন্ট নিয়ে এনসিপির সাথে এলায়েন্স করে তারপরও জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি এই নামেই নির্বাচন করবে এবং শাপলা প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করবে। এটার জন্য এনসিপি প্রয়োজনে রাজপথে লড়াই করবে।
তিনি আরো বলেন, এই বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিস্ট কাঠামো বিলুপ্ত না হওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে, এই কাঠামোর সাথে সংশ্লিষ্ট যারা ছিলো, আওয়ামী লীগ তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে এমন আরো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা কিছু ব্যক্তি এবং গোষ্ঠি তাদেরকে ইন্টারনালি প্রটেকশন দিচ্ছে। এবং এটা হচ্ছে বিভিন্ন্ সমঝোতার বিনিময়ে। আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করতে হলে তাদের মানি ফ্লো বিলুপ্ত করতে হবে।
যারা ফ্যাস্টিকে প্রটেকশন দিচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি উপরে উপরে সাধু সাজবেন আর ভিতরে ভিতরে প্রটেকশন দিবেন, আপনিও তাদের সহযোগি। শুধু সময়ের অপেক্ষা। সাধারণ মানুষ আবারো আপনাদের প্রতিরোধ করবে। আপনি যেই ােহন না কেন এর আগে অনেকে পালানোর পথ পেয়েছে আপনি সে পথও পাবেন না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির ময়মনসিংহ জেলার প্রধান সমন্বয়কারী এডভোকেট জাবেদ রাসিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকিন আলম, কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ, কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
এ জাতীয় আরো খবর..