শিব্বির আহমেদ -
নিগার, মোক্ষপুর এলাকার অজোপাড়াগাঁও থেকে উঠে আসা মেধাবী শিক্ষার্থী।
চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে মোক্ষপুর স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে মেধার ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মুসলিম গার্লস স্কুল কলেজে চান্স পায়।
শহরে নিজেদের বাসা বাড়ি না থাকায় সংগত কারনেই গুলকীবাড়ি একটি ছাত্রী নিবাসের তৃতীয় তলার একটি রুম দুজন ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
ঘটনার দিন দুপুর ২.০৮ মিনিটে নিগার তার বাবাকে ফোন দেয়। নিগারের ভাষ্য ছিলো ঠিক এমন। " বাবা আমার ৫০০শ - ৬০০শ টাকা লাগবে।" প্রতি উত্তরে বাবা বলে " মাগো আমি ভাত খাচ্ছি, খেয়েই তোমাকে টাকা পাঠাচ্ছি।" শুধু এইটুকু কথক। টাকার পরিমান মাত্র ৫০০শ - ৬০০শ যা হাজার টাকা ও না। বাবার ভাত খাওয়া শেষ ও হতে পারেনি এই অল্প কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে গেলো পৃথিবীর সবচেয়ে হৃদয় বিদারক ঘটনা নিগারের আত্মহত্যা।
কি এমন ঘটনা হয়েছিলো তখন, যে ঘটনার জন্য পৃথিবী থেকে নিভে গেলো নিগারের জীবন প্রদ্বীপ। যা মেনে নেয়ার মতো না। মূহুর্তের মধ্যেই ভেসে গেলো চোখের জলে পুরো পরিবারের মেধাবী প্রদ্বীপ। কান্নার রোল বয়ে গেলো পুরো পরিবার সহ পুরো গ্রামে।
অদূর মোক্ষপুর থেকে ছুটে এসেছেন নিগারের বাবা- মা, যদি মেয়ে কে ফিরে পায় সেই মোহ এবং হবেই পৃথিবীর সব বাবা মায়ের ও তাই।
কিন্তুু হতভাগা বাবা - মা নিগারের নিথর দেহ নিয়ে ফিরে যেতে হলো সেই অজপাড়াগাঁওয়ে।
কিন্তুু কেনো এই প্রদ্বীপ নিভে গেলো হতভাগা বাবা- মা জানতে পারলো না। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন সুরাহা পায়নি বাবা - মা।
কি এমন ঘটনা ঘটেছিলো আগের রাতে যা তার চার জন বান্ধবীর জানা৷ সেই চার জন বান্ধবীর মোবাইল টেক্সট বা কল রেকর্ডে কার উস্কানীমূলক কথা থাকতে পারে আর ছেলেটিই কেনো তাদের উস্কিত করেছিলো যা তার বান্ধবীদের অজানা নেই। তার কিছু মোবাইল করভারসেশন বাবা - মায়ের সংগ্রহ করতে হয়েছে অতি কষ্ট করে অতি গোপনে এবং অতি নিরাপত্তার মাধ্যমে।
ঠিক তখনই মায়ের প্রশ্ন? - " একটা জীবন্ত মানুষ কি এমনিতেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে? কি কারন ছিলো এই ঘটনার পিছনে? কার প্ররোচনায় বা নিজেই কেনো আত্মহত্যা করতে পারে এই আকুতি টুকু নিয়ে নিগারের বাবা- মা শেষ পর্যন্ত দ্বারস্থ হয়েছে সাংবাদিকদের কাছে।
কিভাবে জানতে পারলো তার বান্ধবীরা বা সেই ছেলে, নিগার আত্মহত্যা করতে পারে৷
যা সংগ্রহ করা মোবাইল কনভার্সেশনে আরো প্রশ্নবিদ্ধতায় পরিনত হয়েছে।
কারা ছিলো তার সাথে ঘটনা ঘটনার পূর্বের রাতে। সব ঘটনার ধুম্রজালে পরিনত হয় নিগারের বাবা - মায়ের কাছে।
কর্তব্যরত আইন প্রনয়ন সংস্থার একটি অংশের কাছে ময়না তদন্তের ফলাফল ইতিমধ্যেই হয়েছে আত্মহত্যা। নিগারের
মা - বাবা ও গ্রামবাসীর কাছে প্রশ্ন হচ্ছে। নিগার পৃথিবী থেকে চলে গিয়েছে এটা একটা হৃদয় বিদারক ঘটনা। কিন্তুু সঠিক বিষয়টি বাবা- মা ও গ্রামবাসী জানার বাকী থেকে যায়।
এর আসলে সুরাহা কি? বান্ধবীদের বা ছেলের মোবাইল করভার্সেশন গুলি কি মুছে ফেলা হলো বা গোপন করা হলো৷
এই ধুম্রজালের মোহনায় অবস্থান নিয়েছে নিগারের বাবা- মা সহ পুরো গ্রামবাসী।
নিগারের মায়ের আশাহততা নিয়ে অনেক সিড়ি মাড়াবেন বলেই নিগারের মায়ের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলিতে কথা হয়েছে৷
আসলে কোন অকস্মাৎ মৃত্যুই কারো জন্য কাম্য নয়।
এ জাতীয় আরো খবর..