ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রতিষ্ঠিত বাটারফ্লাই ম্যানুফেকচারিং কোম্পানিতে বিএনপি নেতার চাঁ*দাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী আখতার উল আলম।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকালে সংশ্লিষ্ট চাঁ*দাবাজি মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসপি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও আমি নিজে এই চাঁ*দাবাজির অভিযোগ তদন্তে সরেজমিনে গিয়েছি, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তদন্তকালে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এনিয়ে বিভ্রান্তকর মন্তব্য কাম্য নয়।
এর আগে বিগত ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জমি দখল ও চাঁ*দাবাজির অভিযোগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর দল থেকে বহি*স্কার হন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মো. ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। এ ঘটনার ৩দিন পর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বাদি হয়ে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গত ১৬ অক্টোবর আদালতে দাখিল হলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মহলে ব্যাপক গুঞ্জন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) অঙ্কন সরকার প্রতিবেদন দাখিলের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলার এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগ জেলার পুলিশ সুপারসহ আমরা একাধিকবার সরেজমিনে তদন্ত করেছি। এজাহারে বাটারফ্লাই ম্যানুফেকচারিং কোম্পানিতে চাঁ*দাবাজির কথা বলা হলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা চাঁদাবাজির শিকার হননি এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ কোথাও এ ধরনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের এ সংক্রান্ত লিখিত ডকুমেন্ট আদালতেও দাখিল আছে। মূলত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মামলার এজাহারে তথ্যগত ভুল থাকায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বাদি চাইলে আদালতে আপত্তি জানাতে পারেন।
তবে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল প্রসঙ্গে মামলার বাদি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, এনিয়ে আমার কোন মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া নেই।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা মো. ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এই দাবি করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগটি সরেজমিনে দফায় দফায় অনুসন্ধান করেও সত্যতা পায়নি পুলিশ। এরপর মামলার বাদিকে তদন্ত কর্মকর্তা ৩ দফা নোটিশ করেও প্রমাণ না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। কিন্তু ঘটনাটি নিয়ে একটি মহল অর্থের লেনদেনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার করছে। ফলে অপরাধে জড়িত না থাকা স্বত্বেও আমাকে অন্যায়ভাবে মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার করা হচ্ছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দুঃখজনক। মূলত আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক এবং রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য অপপ্রচার।
প্রসঙ্গত, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী যুগ্ম আহবায়ক এবং ভালুকা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি বিগত সময়ে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে দলীয় প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসাবে এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..