নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় নিখোঁজের ১০ দিন পর রাকিব রায়হান তালুকদারের (৪০) ম'রদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটি তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তা থেকে টুকরো টুকরো অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (২ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর এলাকার বাড়ির পাশে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রাকিব রায়হান তালুকদার ওই গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহী হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, রাকিব রায়হান তালুকদার রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কাস্টমসে নিরাপত্তা শাখার সিপাহি হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে চলে যেতেন।
এরই মাঝে গত ২৪ জুলাই ৫ টা থেকে ৫ টা বেজে ২০ মিনিটের মাঝে নিজ ঘর থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজের পর আত্মীয়-স্বজন ও কর্মস্থলে যোগাযোগ করেও তার কোন সন্ধ্যান মিলেনি। নিখোঁজের তিনদিন পর ২৭ জুলাই তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
সুত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে রাকিব রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা রহস্যজনকভাবে পলাতক রয়েছেন। এর মাঝে উপজেলার অনন্তপুর বাজুয়া নদী এলাকা থেকে রায়হান তালুকদারের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চাবির ছড়া উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, কেয়ারটেকার রাজু মির্জা টাঙ্গাইলের এক দালালের মাধ্যমে দেশের বাহিরে যাওয়ার চেষ্টা করতেছে, পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে তার পাসপোর্টটি যাতে অতি শীঘ্রই জব্দ করা হয়।
সাধারণ ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ্র সাহা বলেন, ঘটনার পর থেকে রাকিব রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার পলাতক। তার সাথে অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে আমি জেলার বাইরে অভিযানে আছি। থানা থেকে আমাকে জানানো হয়েছে, যে রাকিব রায়হানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, মরদেহ টুকরা টুকরা করে তার ব্যবহৃত তিন ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেয়া হয়। আজ দুপুরের দিকে স্থানীয় পুকুরে বস্তা দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে, কেন এমন হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এখনো জানা যায়নি। তা জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান তিনি।