আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণঅভ্যুত্থান দিবসে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে নিখোঁজ কাস্টমস সিপাহির টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার তারাকান্দায় পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ: তারাকান্দা বাজার পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শব্দদূষণবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম তারাকান্দা উপজেলায় বিভিন্ন ফুয়েল স্টেশনে বিএসটি আইয়ের অভিযান ময়মনসিংহের পরানগঞ্জে নিখোঁজ যুনকের মরদেহ উদ্ধার ময়মনসিংহের পরানগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে ট্রাক অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই নারীসহ নিহত তিন হত্যা বা আত্মহত্যা জানতে চায় সন্তানহারা নিগারের পরিবার ময়মনসিংহে চালককে কুপিয়ে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই তারাকান্দায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধে সংঘাত-সহিংসতায় দুই দিনে পক্ষে-বিপক্ষে দুইজনের মৃত্যু। মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে চাচাকে পিটিয়ে মারলো ভাতিজা ভূমি সেবা কে গতিশীলতা ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে তারাকান্দা ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র পরিদর্শন ৯ বছরের শিশু গৃহকর্মীর ওপর ১৪ মাস ধরে পাশবিক নির্যাতন: শরীর জুড়ে ক্ষতচিহ্ন আর্চ স্টিল সেতু যোগাযোগ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়ন আনবে, পরিদর্শনে এমপি ওয়াহাব আকন্দ সমাজ বিধ্বংসী সাইবার ক্রাইম সম্রাট আশরাফুল ইসলাম মামুন ও তার ভাই আটক! এলাকায় স্বস্তি ময়মনসিংহ ভূমি অফিসে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট ১৫ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ৩৫১ টাকা রাজস্ব আদায় ৩০ বছরেও হয়নি কালভার্ট ও সড়ক, চরম দুর্ভোগে রৌমারীর দুই গ্রামের হাজারো মানুষ তারাকান্দায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মানিকদির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 'পকেট কমিটি' গঠনের অভিযোগ তারাকান্দায় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মচারী ও দলিল লেখকদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
Swapnil Bangladesh

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় উন্নয়ন কাজে চরম অনিয়ম

রিপোর্টারের নাম: সম্পাদক
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : May 13, 2026 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন: উদ্বোধনের ১৫ দিনের মধ্যেই ভাঙন-



স্টাফ রিপোর্টার।। 
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ১০নং বিসকা ইউনিয়নের ঘিটুয়ারী গ্রামে নবনির্মিত একটি সড়ক নির্মাণে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘিটুয়ারী চৌরাস্তা জামে মসজিদ থেকে ওয়াহেদিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ১১৫ ফুট রাস্তা ইটের সলিং করার অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে কাজ হয়েছে মাত্র ৩৫ ফুট। অধিকিন্তু  তা আবার উদ্বোধনের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—
অনুমোদিত বাকি ৮০ ফুট রাস্তা গেল কোথায়?
কার নির্দেশে বা কার স্বার্থে সরকারি অর্থের নয় ছয় করা হয়েছে। 
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মিত ৩৫ ফুট রাস্তার ইটগুলো নিম্নমানের এবং সঠিকভাবে বসানো হয়নি। কোথাও কোথাও ইট সরে গেছে, আবার কোথাও ধেবে গেছে পুরো অংশ। এতে করে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কর্দমাক্ত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি পরিকল্পিতভাবে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে শেষ করে বিল উত্তোলন করে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। 
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন শত শত ছাত্রী ওয়াহেদিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। আগে থেকেই কাঁচা ও কর্দমাক্ত পথের কারণে তাদের দুর্ভোগ ছিল চরমে। নতুন করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসার আশা জেগেছিল। কিন্তু সেই আশায় এখন চরম হতাশা নেমে এসেছে। বরং এখন পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ভেঙে যাওয়া ইটের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহল নিজেদের স্বার্থে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে নামে মাত্র কাজ দেখিয়ে পুরো প্রকল্প শেষ দেখিয়েছে। এতে করে সরকারি অর্থের অপচয় যেমন হয়েছে, তেমনি জনগণের মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি শুধুমাত্র অবহেলা নয়, বরং এটি সুস্পষ্ট দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার ঘাটতির ফল—এমনটাই মনে করছেন তারা।
এলাকার একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের মেয়েরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যায়। নতুন রাস্তা হবে শুনে আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখি আগের চেয়েও খারাপ অবস্থা। এটা কি উন্নয়ন, নাকি প্রহসন?”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “১১৫ ফুট রাস্তার কাজের অনুমোদন থাকলেও মাত্র ৩৫ ফুট কাজ করে শেষ দেখানো হয়েছে—এটা সরাসরি দুর্নীতি। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহল জোর দাবি জানিয়েছেন—
১. পুরো প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি দিকের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে।
২. প্রকল্পের সাথে জড়িত দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি ও ঠিকাদারদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. অনুমোদিত ১১৫ ফুট রাস্তার পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত পুনঃনির্মাণ করতে হবে, যাতে ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে এ ধরনের অনিয়ম দেশের বিভিন্ন স্থানে বারবার ঘটছে। যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন দুর্নীতি আরও বেড়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও তীব্র হবে।
সুতরাং, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন এর কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—
এই অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে, দায়ীদের বিচারের আওতায় এনে, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা।
না হলে উন্নয়নের নামে এমন প্রহসন মানুষের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে দেবে—যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

#
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
#